২৬ অক্টোবর ২০২৬ , ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

​রাঙামাটির বুদ্ধাংকুর বৌদ্ধ বিহারে ২৬তম শুভ দানোত্তম কঠিন চীবর দানোৎসব সম্পন্ন

আপলোড সময় : ২৬-১০-২০২৬
​রাঙামাটির বুদ্ধাংকুর বৌদ্ধ বিহারে  ২৬তম শুভ দানোত্তম কঠিন চীবর দানোৎসব সম্পন্ন সংগৃহীত ছবি

দেবদত্ত মুৎসুদ্দী, রাঙামাটি : রাঙামাটি পার্বত্য জেলার আসামবস্তি বুদ্ধাঙ্কুর বৌদ্ধ বিহারে যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ২৬তম শুভ দানোত্তম কঠিন চীবর দানোৎসব-২০২৬।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল থেকে  সন্ধ্যা পর্যন্ত   বুদ্ধাঙ্কুর বৌদ্ধ বিহার প্রাঙ্গণে এই মহতী পুণ্যানুষ্ঠানের আয়োজন করে রাঙামাটি বড়ুয়া জনকল্যাণ সংস্থা ও বুদ্ধাঙ্কুর বৌদ্ধ বিহার পরিচালনা কমিটি।

 প্রথম পর্ব অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ  ভদন্ত ধর্মকীর্তি মহাথেরো, উপাধ্যক্ষ, সংঘারাম  বৌদ্ধ বিহার  এবং চেয়ারম্যান ও প্রধান উপদেষ্টা, পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ বাংলাদেশ, পৌর ও সদর উপজেলা শাখা।

প্রধান ধর্মদেশক হিসেবে ধর্মদেশনা প্রদান করেন বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার মহাসচিব ও ঐতিহ্যবাহী পুণ্যতীর্থ চান্দগাঁও সার্বজনীন শাক্যমুনি বিহারের বিহারাধ্যক্ষ  মহাস্থবির ড. এস. লোকজিৎ ভিক্ষু। তিনি কঠিন চীবর দানের তাৎপর্য ও বৌদ্ধ ধর্মে দানের মহিমা নিয়ে আলোচনা করেন।
দ্বিতীয় পর্বে প্রধান ধর্ম দেশক ছিলেন,  সত্যপাল মহস্তবীর থের ভিক্ষু।
প্রধান অতিথি বলেন,  ধর্ম যার যার বাংলাদেশ সবার। বর্তমান সরকার দেশ জাতির কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। আপনারা ভোট দিয়ে দেশ জাতির কল্যানে আমাদের কাজ করতে সুযোগ দিয়েছেন তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাই।   পবিত্র মঙ্গলাচরণ পাঠ করেন বুদ্ধাঙ্কুর বৌদ্ধ বিহারের বিহারাধ্যক্ষ ভদন্ত করুণা পাল থেরো। পঞ্চশীল প্রার্থনা করেন রাঙামাটি বড়ুয়া জনকল্যাণ সংস্থার পাঠাগার ও প্রকাশনী বিষয়ক সম্পাদক থোকন বড়ুয়া।

অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন সংস্থার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক  আশীষ বড়ুয়া ও  সঞ্জু বড়ুয়া। দ্বিতীয় পর্বে সঞ্চালনা  করেন   স্নেহাশিস বড়ুয়া সেণ্টু ও পম্পি বড়ুয়া। 

এসময়  প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান  ও জেলা বিএনপি সভাপতি দীপন তালুকদার দিপু, বিশেষ অতিথি ছিলেন,  জেলা পরিষদ সদস্য ও  জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক এ্যাড:  মামুনুর রশীদ মামুন, জেলা বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সাকিল,  সাবেক জেলা যুবদল সাধারণ সম্পাদক আবু সায়েদ সায়েম।   রাঙামাটি বড়ুয়া জনকল্যাণ সংস্থার নেতৃবৃন্দ, বুদ্ধাঙ্কুর বৌদ্ধ বিহার পরিচালনা কমিটির সদস্য, সদস্যা, বিভিন্ন বিহারের ভিক্ষু সংঘ ও শত শত দায়ক-দায়িকা উপস্থিত ছিলেন।

দানোৎসবে বক্তারা বলেন, বৌদ্ধ ধর্মে কঠিন চীবর দানকে সর্বশ্রেষ্ঠ দান হিসেবে গণ্য করা হয়। প্রবারণা পূর্ণিমার পর এক মাসের মধ্যে ভিক্ষু সংঘকে এই চীবর দান করা হয়। ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রদ্ধাচিত্তে এই দান করলে জন্ম-জন্মান্তরের পাপ মোচন হয় এবং নির্বাণ লাভের পথ সুগম হয়।

পরে ভিক্ষু সংঘের উদ্দেশ্যে কঠিন চীবরসহ অষ্টপরিষ্কার দান করা হয়। ভক্তরা বুদ্ধের কাছে বিশ্ব শান্তি ও সকল প্রাণীর মঙ্গল কামনা করে প্রার্থনা করেন। সকাল থেকে দায়ক দায়ীদের আগমনে বিহারের আশ পাশে এক উৎসব মুখর মিলন মেলায় পরিবেশ সৃষ্টি হয়।


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ